rupalibangla
rupalibangla rupalibangla rupalibangla rupalibangla rupalibangla
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিরোনাম

ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী নিহত ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা শিক্ষার মান ও কর্মসংস্থান বাড়াবে : ইউজিসি সদস্য ড. মামুন যশোর শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানের সাথে সকশিস নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় ঝিকরগাছার দারুত তাকওয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় গাছ লাগানো কর্মসূচি বাস্তবায়ন হাসিনা-আজিজ-বেনজীরসহ পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনিশ্চিত গন্তব্যে ভারতের রাজনীতি নিবন্ধন শুরু : এবার হজে যেতে পারবেন না যারা রোটারি ক্লাব অব যশোরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি লাইসেন্স ফিরে পেলো আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

চার ফুলের সাজে অপরূপা নাটোর

নাটোর প্রতিনিধি

প্রকাশ : বুধবার, ২৯ এপ্রিল,২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
চার ফুলের সাজে অপরূপা নাটোর

বৈশাখের তপ্ত দুপুরে তামাটে আকাশ যখন আগুন ঝরায়, তখন নাটোরের প্রকৃতি মেতে ওঠে এক স্নিগ্ধ আভিজাত্যের খেলায়। চারদিকের রুক্ষতা আর প্রচণ্ড দাবদাহকে উপেক্ষা করে নাটোর এখন যেন এক জীবন্ত ক্যানভাস। বসন্ত ও গ্রীষ্মের এই সন্ধিক্ষণে নাটোরের পথে-প্রান্তরে চলছে এক বর্ণিল রঙের উৎসব।

কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম অনুরাগ:
শহরের ব্যস্ত রাজপথ ধরে হাঁটলেই মনে হয় আকাশের কোনো এক কোণে কেউ আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। তবে সে আগুন দহন করে না, বরং চোখ জুড়িয়ে দেয়। উত্তরা গণভবনের দেয়াল ঘেঁষে, বনলতা সেনের স্মৃতিবিজড়িত পথসহ নাটোরের গ্রামাঞ্চলে এখন কৃষ্ণচূড়ার একচ্ছত্র রাজত্ব। গাছের প্রতিটি ডাল লালের ভারে নুয়ে পড়েছে, আর নিচে ঝরে পড়া পাপড়িগুলো তৈরি করেছে এক প্রাকৃতিক লাল গালিচা। কৃষ্ণচূড়া এখানে দাঁড়িয়ে আছে প্রকৃতির তেজ ও সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে।

জারুলের বেগুনি স্বপ্নের আভিজাত্য:
কৃষ্ণচূড়ার রক্তিমতার পাশেই জলাশয়ের ধারে কিংবা বাড়ির আঙিনায় শান্ত-স্নিগ্ধ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে জারুল। এর বেগুনি পাপড়িগুলো যেন ভোরের শিশিরে ধোয়া কোনো রাজকন্যার রেশমি ওড়না। গ্রাম্য মেঠো পথ থেকে শুরু করে শহরের পিচঢালা সড়কের আইল পর্যন্ত জারুলের উপস্থিতি তপ্ত দুপুরে এক পশলা শীতলতার অনুভূতি দেয়। বাতাসে দুলতে থাকা এই বেগুনি ফুলগুলো বাংলার প্রকৃতির এক নীরব আভিজাত্য।

সোনালুর সোনালি জাদু:
এই রঙিন উৎসবে বাড়তি বৈচিত্র্য এনেছে সোনালু ফুল। নাটোরের নানা প্রান্তে এখন সোনালুর সোনালি ঝিলিক। দীর্ঘ মঞ্জুরির এই ফুলগুলো যেন প্রকৃতির হাতে গড়া 'সোনার ঝুমকো'। দূর থেকে দেখলে মনে হয় গাছ থেকে যেন সোনা ঝরে পড়ছে। উগ্র ঘ্রাণ না থাকলেও এর রূপের আভা পথচারীদের মুগ্ধ করে। বিশেষ করে কৃষ্ণচূড়ার লালের সঙ্গে সোনালুর হলুদের মিতালী নাটোরকে দিয়েছে এক অপার্থিব রূপ।

মাধবীলতার সুবাসিত সন্ধ্যা:
দিন শেষে সন্ধ্যার ম্লান আলোয় নাটোর শহর ও গ্রামজুড়ে নতুন মায়া ছড়ায় মাধবীলতা। পুরোনো দালানের কার্নিশ কিংবা শৌখিন বাড়ির গেটজুড়ে সাদা-গোলাপী ফুলের এই লতা যেন বিকেলের নরম আলোয় প্রাণ পায়। রবীন্দ্রসঙ্গীতের মতোই স্নিগ্ধ এই ফুল চারপাশে ছড়িয়ে দেয় মিষ্টি সুবাস। সন্ধ্যার হিমেল বাতাসে এর ঘ্রাণ যান্ত্রিক শহরকেও মুহূর্তেই মায়া নগরীতে রূপ দেয়।

প্রকৃতির কবিতায় নাটোর:
স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমীরা বলছেন, কৃষ্ণচূড়ার লাল, জারুলের বেগুনি, সোনালুর হলুদ আর মাধবীলতার স্নিগ্ধতা—এই চার রঙের সংমিশ্রণে নাটোর এখন এক জীবন্ত কবিতার বই। নাগরিক জীবনের ক্লান্তি ভুলিয়ে প্রকৃতির এই উপহার মানুষের হৃদয়ে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে। যারা যান্ত্রিকতা ছেড়ে কিছুটা সময় প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটাতে চান, তাদের জন্য এখনই নাটোর ঘুরে দেখার উপযুক্ত সময়।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন