রূপালী ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাপক ভরাডুবিতে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে দলের ভেতরের অসন্তোষ। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে ঘিরে প্রশ্ন তুলছেন দলেরই একাংশের নেতা-কর্মীরা। আজ রোববার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অসন্তোষের জেরে গতকাল শনিবার দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দলের তিন মুখপাত্রকে ছয় বছরের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করেছে তৃণমূল। যদিও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দল আর ক্ষমতায় না থাকায় ক্ষুব্ধ নেতাদের মুখ বন্ধ করা কঠিন হতে পারে।
দলের পরিচিত মুখপাত্র রাজু দত্ত নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেতাদের নিয়ে অতীতে করা আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান।
ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তৃণমূলের ভেতর থেকে চাপ ও হুমকি দিয়ে তাকে এসব মন্তব্য করতে বাধ্য করা হয়েছিল।’ পাশাপাশি তাকে সুরক্ষা ও সমর্থন দেওয়ার জন্য বিজেপিকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পরে তৃণমূল থেকে তাকে শৃঙ্খলা কমিটির সামনে হাজির হতে বললেও তিনি যাননি।
অন্যদিকে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাক্তন ক্রিকেটার ও তৃণমূল নেতা মনোজ তিওয়ারিও দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় টিকিট পেতে প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে ৫ কোটি রুপি করে দাবি করা হয়েছিল, যা দিতে অস্বীকার করেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী থাকা মনোজ তিওয়ারি আরও অভিযোগ করেন, ‘সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের খেলাধুলা সম্পর্কে যথাযথ ধারণা নেই। গত বছর ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির কলকাতা সফরে বিশৃঙ্খলার ঘটনায়ও অরূপ বিশ্বাস সমালোচিত হন। ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলার অভাবে সেই সফর ভেস্তে গিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।’
এ ছাড়া মুখপাত্র কোহিনূর মজুমদার ও কার্তিক ঘোষকেও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
কোহিনূর মজুমদার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘দলের নেতাদের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো।’
দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পাপিয়া ঘোষও। তিনি কোচবিহারের প্রবীণ তৃণমূল নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষের মেয়ে। রবীন্দ্রনাথ ঘোষও প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য্য কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।