রাজনীতির আকাশের রঙ এখন যেন সকাল-বিকেল পাল্টাচ্ছে। সমাজ এবং রাষ্ট্র এখনো অসহিষ্ণু। আমরা কখনো রাজনীতির হাটে সওদা করি না, এর ব্যাকরণটা অনেকের মতো আমাদের কাছেও দুর্বোধ্য। দূরে দাঁড়িয়ে দেখে যাই, সবকিছুর ভেদ ও মারপ্যাঁচ সহজবোধ্য নয়। তাই এসব নিয়ে কিছু লেখা, কিছু বলা বিপদ ডেকে আনতে পারে।
ক্ষমতাসীন দল সংসদের ভেতরে-বাইরে দুই সুরে কথা বলছে। এ নিয়ে নাগরিক সমাজ ভাবনায় নিমজ্জিত। অনেকে মনে করছেন, এটি কি ‘দলটির স্বরূপে প্রত্যাবর্তন; নাকি অন্য কিছু’। এ নিয়ে অনেকটা গোলকধাঁধায় পড়েছে আমজনতা। যেমন গুমের অর্ডিন্যান্সটি অনেকের ভাষায় সংসদ থেকে ‘ব্ল্যাক হোলে’ ফেলে দেয়া হয়েছে। এ বক্তব্যের পাদটীকা হচ্ছে– গুম, আয়নাঘর।
অতীতের দুঃসহ স্মৃতি, ভীতিকর সব কাহিনী এখন অর্থহীন হয়ে পড়ছে। আবার একই সাথে সঙ্কটময় দিনের বিএনপির অন্যতম এক কাণ্ডারি পল্টনে সোচ্চার কণ্ঠে বলেছেন গুম আইনের ফাঁকফোকর মেরামত করে এটি দ্রুত প্রণয়নের কথা। ক’দিন পর বিএনপির ওই নেতা বিদ্যুৎমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বলেন, বিদ্যুৎ নিয়ে জনদুর্ভোগের দ্রুত সুরাহা করতে হবে। কিন্তু স্মরণে রাখা ভালো যে, শুধু মুখের কথায় চিঁড়া ভেজে না।
সরকারপ্রধান সম্প্রতি এক সভায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে, দৃঢ়ভাবে বলেছেন। অথচ ক’দিন আগে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ এক মন্ত্রী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে জুলাই সনদ নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন। তারপর ওই মন্ত্রী জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেয়ার সময় বলেছেন, নির্বাচনের স্বার্থে তারা অনেক কথা সে সময় বলেননি।
সংস্কারের ‘বাহানায়’ যদি নির্বাচন হতে না দেয়, সে জন্য তারা সবকিছুতে আপস করে জুলাই জাতীয় সনদে সই করেছিলেন। একই দলের প্রধান ও তার মন্ত্রিসভার সদস্য এমন পরস্পরবিপরীত কথা বলছেন। এসব কথার রসায়ন বোঝা কঠিন। অন্য দিকে ইসলামী ব্যাংক দখলে ঘেরাও সমাবেশ নগরবাসী অবাক বিস্ময়ে প্রত্যক্ষ করেছেন।
এর আগে আইন করে কয়েকটি ইসলামী ব্যাংককে সাবেক মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। আবার হঠাৎ করে সরকারি সংস্থা দুদক বৃহৎ এই ব্যাংকের অর্থপাচার নিয়ে তদন্তের কথা বলেছে। প্রকৃত অর্থে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এমন পরস্পরবিরোধী কথা ও কার্যক্রম দেখে-শুনে মানুষ হতভম্ব। কেউ বুঝতে পারছেন না, কোনটা মায়া। কোনটা কায়া। (সংগ্রহীত ও সংক্ষেপিত)
লেখক : সম্পাদক, নয়া দিগন্ত