সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এবং অস্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা সচল রাখতে এক অনন্য মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় সমাজসেবক আলমাছ উদ্দিন শিপু। তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত তহবিল থেকে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী নারায়ণতলা মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষার্থীর ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ৬ মাসের সম্পূর্ণ স্কুল বেতন পরিশোধের দায়িত্ব নিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের হল রুমে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে এই আর্থিক সহায়তার অর্থ ও রসিদ তুলে দেন আলমাছ উদ্দিন শিপু। তিনি জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, ২ নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য (মেম্বার) এবং আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।
বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্লাসের ৩০ জন বাছাইকৃত অস্বচ্ছল ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীকে এই সহায়তার আওতায় আনা হয়। বছরের শেষ ৬ মাসের স্কুল বেতন এককালীন পরিশোধের দায়িত্ব পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।
আয়োজিত এই বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণতলা মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এলাকার বিশিষ্ট তরুণ সমাজসেবক সাইফুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সুবিধাভোগী ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে আলমাছ উদ্দিন শিপু বলেন, "শিক্ষা প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। অর্থাভাবে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ বা ব্যাহত হোক, তা আমরা চাই না। আমি আমার সাধ্যমতো এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। ভবিষ্যতেও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের প্রতিটি ঘরে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে এবং তরুণ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে আমার এই প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।"
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, "আলমাছ উদ্দিন শিপুর এই মানবিক উদ্যোগ সত্যিই অনুকরণীয়। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসের বেতন পরিশোধ করে দেওয়ায় দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর থেকে আর্থিক চাপ অনেক কমে গেল। সমাজের অন্য বৃত্তবানদেরও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এভাবে এগিয়ে আসা উচিত।"
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে শিপুর এমন সময়োপযোগী উদ্যোগ আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে তার অবস্থানকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও জনপ্রিয় করে তুলবে।