আব্বাস উদ্দীন, মণিরামপুর (যশোর) :
গ্রাম বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে মুক্তেশ্বরী স্কুল এন্ড কলেজ। আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে কচিকাচা শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে একটি সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন মেধাবী ছাত্র ও কুমিল্লা-দাউদকান্দির গৌরিপুর আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং গৌরিপুর ফিউচার আইসিটি স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হরিদাসকাটি ইউনিয়নের চান্দুয়া গ্রামের কৃতি সন্তান এম.এ হাসান তৃণমূল পর্যায়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া সাধারষ পরিবারের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে শহরের আদলে মানসম্মত আধুনিক শিক্ষা ও প্রতিভা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখার মানসিকতায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে গত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া বাজারে প্রতিষ্ঠা করেন মুক্তেশ্বরী স্কুল এন্ড কলেজ। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রতিষ্ঠানটি শতাধিক শিক্ষার্থী ও আটজন শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়ে অত্যন্ত সুন্দর ও সুচারুভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে।
মুক্তেশ্বরী স্কুল এন্ড কলেলের স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা এম.এ হাসান জানান, কিন্ডার গার্টেন ও ইংলিশ মিডিয়ামের সিলেবাসের পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী যুগোপযোগী আধুনিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ইংলিশ মিডিয়িামে ৫০ জন শিক্ষার্থী ও কিন্ডার গার্টেনের সাধারণ শাখায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে সুন্দর ও পরিপাটি পরিবেশে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে।
মাত্র এক বছরেই শিক্ষকদের দক্ষতা, আন্তরিকতা এক সম্ভাবনাময়ী শিক্ষালয় হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরও জানান, এলাকার কাচিকাচা কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে ৪ বছরের শিশুদের নিয়ে দুইমাস ব্যাপি ‘ফ্রি ফাউন্ডেশন ক্লাস’ নামে একটি কোর্স চালু করা হয়েছে। মূলতঃ সমবয়সী শিশুদের সাথে মেশা, শেয়ার করা এবং একসঙ্গে মিলেমিশে থাকার প্রাথমিক শিক্ষা এখান থেকেই শুরু হয়। কোনো রকম মানসিক চাপ ছাড়াই খেলার ছলে শিক্ষা, বর্ণমালা, সংখ্যা, রঙ ও আকারের মতো মৌলিক বিষয়গুলো শিশুরা আনন্দের সাথে এই ফাউন্ডেশন কোর্সে শিখতে পারবে।
এছাড়া গল্প,ছড়া গান এবং কথা বলার মাধ্যমে শিশুদের মুখের জড়তা কাটে এবং শব্দভান্ডার বৃদ্ধি পায় এবং স্কুলে যাওয়ার ভয় কাটিয়ে, ক্লাসরুমের পরিবেশের সাথে শিশুরা সহজেই মানিয়ে নিতে শেখে সাথে সাথে শিশুদের মস্তিস্কের বিকাশ ঘটে সবচেয়ে দ্রুত।
প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা, ইংরেজি ও কম্পিউটার শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে রুপা পারভীন, সহকারী শিক্ষিকা সালেহা খাতুন, রুমিছা খাতুন, তাসবিয়া সুলতানা, নিবেদিতা মন্ডল, জ্যেতি মন্ডল, নাঈম উদ্দিন ও ধর্মীয় শিক্ষক মুস্তাকিম বিল্লাহ।
স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত। কিন্তু মুক্তেশ্বরী স্কুল এন্ড কলেজের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় স্থানীয় শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকায় থেকেই শহরের নামকরা স্কুলের ন্যায় আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির স্বপ্নদ্রষ্টা এম.এ হাসান মনে করেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়। একজন শিক্ষার্থীকে যোগ্য, মানবিক, দায়িত্বশীল ও আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। সে লক্ষ্যেই শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা আরও বাড়ানো গেলে মুক্তেশ্বরী স্কুল এন্ড কলেজ ভবিষ্যতে গ্রাম বাংলার শিক্ষার ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
মুক্তেশ্বরী স্কুল এন্ড কলেজের অভিভাবক ঢাকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও অভয়নগর উপজেলার সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু জিহাদ বলেন, শহরকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। যথাযথ পরিকল্পনা, দক্ষ শিক্ষক, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের নিরলস প্রচেষ্টার সমন্বয়ে মুক্তেশ্বরী স্কুল এন্ড কলেজ একদিন এ অঞ্চলের মধ্যে শিক্ষার অন্যতম আলোকবর্তিকা হয়ে উঠতে পারে ।