রূপালী প্রতিবেদক, যশোর
হাতে লেখা চিঠির সেই আবেগ ও আন্তরিকতা ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল ডিভাইসের দাপটে সাধারণ মানুষ এখন আর আগের মতো চিঠি লেখেন না। এই বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিঠি লেখার আগ্রহ তৈরি করতে বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী চিঠি উৎসব।
শুক্রবার সকালে যশোর ডাক বিভাগের উদ্যোগে রেলি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় চিঠি উৎসব। উৎসব উপলক্ষে ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে সাজানো হয়েছে একটি নান্দনিক বিশেষ স্টল। সেখানে এসে শিক্ষার্থীরা চিঠি লেখার পাশাপাশি ডাকসেবা সম্পর্কে জানতে ও নানা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছেন।
স্টলে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা কলম হাতে মনোযোগ দিয়ে চিঠি লিখছেন। কেউ লিখছেন বাবা-মাকে, কেউ আবার প্রিয় বন্ধু বা কাছের মানুষকে। এই স্টল থেকেই রহমান মুনসারী, রেবেকা সুলতানা ও পরশ হালদার তাঁদের বাড়িতে এবং প্রিয়জনের কাছে চিঠি লিখে ডাকে জমা দিয়েছেন।
এবারের বিশ্ব ডাক দিবসের প্রতিপাদ্য 'সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’। ঐতিহ্যবাহী ডাকসেবাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব সেবা হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরাই এবারের আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ৯ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী ‘ডাকসেবা সপ্তাহ’ পালন করছে। এ সময় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি লেখার উৎসব, ডাকটিকিট প্রদর্শনী ও ডাকসেবা বিষয়ক মেলা অনুষ্ঠিত হবে। যশোরের এই আয়োজন সেই কর্মসূচিরই অংশ।
১৮৭৪ সালের ৯ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের বার্নে ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন (ইউপিইউ) প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী স্মরণে ১৯৬৯ সালে জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত ইউপিইউর কংগ্রেসে ৯ অক্টোবরকে বিশ্ব ডাক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ১৯৭০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
প্রযুক্তির প্রসারে চিঠি আদান-প্রদানের ধরন বদলে গেলেও পার্সেল পরিবহন, পণ্য সরবরাহ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডাক নেটওয়ার্কের গুরুত্ব এখনো রয়েছে। এ বাস্তবতায় ডাক বিভাগ ই-কমার্স ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানো, ডিজিটাল পদ্ধতিতে পার্সেল অনুসরণ এবং গ্রাহকের কাছ থেকে পার্সেল সংগ্রহ ও ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।
পাশাপাশি পণ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য ফুলফিলমেন্ট সেন্টার, কৃষিপণ্য ও মৌসুমি ফল পরিবহন এবং উদ্যোক্তাভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস চালুর উদ্যোগও রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ডাকসেবার পরিধি বাড়বে এবং গ্রাহকের কাছে সেবা পৌঁছানো আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি উৎসব উদ্বোধন করেন দক্ষিণাঞ্চল খুলনার পোস্টমাস্টার জেনারেল কবির আহমেদ। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারেল মোহাম্মদ মহসীন উদ্দিন, খুলনা বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মিরাজুল হক, যশোর বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল হাসানুজ্জামান ও পোস্টমাস্টার জুবায়ের সাব্বির।
সকালে যশোরে অনুষ্ঠিত র্যালিতে অংশ নেন ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল হাসানুজ্জামান, পোস্টমাস্টার জুবায়ের সাব্বির, ডাকজীবন বীমা যশোরের এজিএম আতিকারুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীগণ।