রূপালী প্রতিবেদক, যশোর :
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র খাজুরা অঞ্চলকে একটি উপজেলায় রূপান্তর করার ঘোষণা দিয়েছেন যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের এমপি অধ্যাপক মোঃ গোলাম রসুল । বুধবার বাজারের ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন । এসময় তিনি বাজারের সার্বিক উন্নয়ন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বাজারে সব ধরনের চাঁদাবাজি, চুরি-ছিনতাই ও দুর্নীতি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন। এদিন বিকেলে খাজুরা বাজারের ‘আমিন প্লাজা’য় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত এক সুধী ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
এমপি গোলাম রসুল বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও সার্বিক উন্নয়নের সম্ভাবনা বিবেচনায় খাজুরা অঞ্চলটি একটি পৃথক প্রশাসনিক ইউনিট হওয়ার পূর্ণ যুক্তি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, খাজুরাকে উপজেলা, থানা অথবা পৌরসভায় উন্নীত করার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। ”
সভায় নিজের বিগত ৬-৭ মাসের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে আমরা ইটের সলিং রাস্তা, মসজিদ, মাদ্রাসা, প্রাইমারি স্কুল ও কলেজের জন্য প্রায় ১.৫ থেকে ২.৮০ কোটি টাকার প্রজেক্ট প্রদান করেছি, যা সামনে আরও আসবে। এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান ও শ্মশানের জন্য ৩০ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রস্তাবনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
তিনি বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫০ লাখ বা ১ কোটি টাকার বরাদ্দ, রাস্তাঘাট বা দলীয় ডিলারশিপ—কোনো ক্ষেত্রেই এমপি গোলাম রসুল কারও কাছ থেকে এক টাকা অনুদান বা ঘুষ নেয়নি। কোনো শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে টাকার বিনিময় সুবিধা নিতে হয়নি, সম্পূর্ণ সুপারিশ ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই বরাদ্দ এসেছে।”
ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে এমপি বলেন, “এমপিদের নাম ভাঙিয়ে কিছু লোক বাজারে বা বিভিন্ন স্থানে চাঁদা দাবি করে। আমার স্পষ্ট কথা—সার্টিফিকেটধারী কোনো চাঁদাবাজ বা অবৈধ সুবিধাভোগী থাকবে না। বাজারে চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে আমি সার্বিক সহযোগিতা করব।”
এছাড়া নিজের ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “এমপি হলেই পকেটে কোটি কোটি টাকা—মানুষের এই ধারণা ভুল। সরকারি নির্ধারিত ভাতা থেকেই আমার তেলের খরচ, গাড়ি মেইনটেনেন্স হয়। ব্যক্তিগতভাবে এমপি হওয়ার আগে যে আর্থিক অবস্থায় ছিলাম, বর্তমানে তার চেয়েও কঠিন পরিস্থিতিতে আছি।”
অনুষ্ঠানে আমিন প্লাজার সত্ত্বাধিকারী ও চন্ডিপুর মাদরাসার সুপার হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং তরুণ ব্যবসায়ী এবি মুন্তাসিরের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খাজুরা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মুফতি মাওলানা মনিরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী শিহাবুর রহমান, কার্তিক মণ্ডল, খাজুরা কেন্দ্রীয় বৈদিক কালিবাড়ি মন্দিরের পুরোহিত মৃত্যুঞ্জয় মজুমদার।